বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ আসামির যাবজ্জীবন
বরগুনায় ধর্ষণ মামলায় আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জুলফিকার আলী খান। একই সঙ্গে জরিমানার এক লাখ টাকা বাদিনীর গর্ভের ছেলে সন্তানকে দেয়ারও আদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের আমজেদ মুসুল্লির পুত্র আবদুর রহমান। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী ওই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের স্বামী পরিত্যক্তা নারী। দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুর রহমান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৮ সালের ২৮শে জানুয়ারি রাতে প্রথম ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের কথা বলে আসামি একাধিকবার বাদীকে ধর্ষণ করে। আসামির ধর্ষণের ফলে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এসময় আসামিকে বারবার বিয়ের জন্য অনুরোধ করে ব্যর্থ হয় বাদী। পরে বাদী ২০০৮ সালের ১৬ই জুলাই ওই ট্রাইব্যুনালে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে। মামলা চলাকালে বাদী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। আদালতের রায়ে আরো উল্লেখ্য করা হয়, সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভরণ-পোষণের যাবতীয় ব্যয় সরকারি বিধি মোতাবেক বহন করবে। তবে সরকার ব্যয়িত ভরণপোষণের সম্যক অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থেকে আদায় করতে পারবে। আদালতে উপস্থিত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলেন, আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তিনি।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বরগুনা জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ।
No comments