মাদকবিরোধী অভিযানে শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে বন্দুকযুদ্ধে ১১ জন নিহত হয়েছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট, মেহেরপুর, খুলনা, কক্সবাজার, চাঁদপুর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র্যাব-পুলিশের সঙ্গে কিংবা নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী এবং ঘটনাস্থল থেকে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দাবি।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ পুলিশ। শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় গুলিয়াখালী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক জানান, রাতে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি সমুদ্র উপকূলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টাগুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে মাদক সম্রাট রেহান(২৮) এর লাশ পাওয়া যায়। এ সময় তার সহযোগী জাফর, ইউসুফ ও কালা সুমনসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। নিহত মাদক ব্যবসায়ী রেহান ৪নং মুরাদপুর ইউপি’র গোলাবাড়িয়া দীঘির পাড় এলাকার মালিউল হকের তৃতীয় পুত্র। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মাদকসহ ৮ মামলা রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, রাণীশংকৈল মীরডাঙ্গী দৌলতপুর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তালেবান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ সময় দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একশ’ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। রোববার ভোর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলায় মীরডাঙ্গী দৌলতপুর নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ নিশ্চিত করেছে।
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, চিতলমারীতে ডিবির সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মিতুল বিশ্বাস নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল সরকার জানান, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চিংগুড়ি গ্রামের মাদক সম্রাট মিতুল বিশ্বাসের বাড়িতে ডিবির একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় মিতুলকে আটক করে তার আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ২ কেজি গাঁজা, ১০০ পিস ইয়াবা, ১টি শার্টারগান, ২টি রাইফেলের গুলি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আস্তানা থেকে অভিযান চালিয়ে রাত তিনটার দিকে ফেরার পথে পার্শ্ববর্তী টুঙ্গিপাড়া রোডোর লুৎফার রহমানের বাগেনের কাছে পৌঁছালে মিতুল বাহিনীর লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশও পাল্টা হামলা চালায়। এতে মিতুল বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হলে তাকে চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহত মিতুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় ১৫ থেকে ২০টি মাদক মামলা রয়েছে।
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি জানান, গাংনীতে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৫০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত হাফি গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজ পাড়ার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দীনের ছেলে। রোববার ভোররাত ২টার সময় উপজেলার সীমান্তবর্তী গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথানগাড়ী মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় হাফি নিহত হয় বলে পুুলিশের পক্ষে থেকে জানানো হয়। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার (পিপিএম) জানান, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথানগাড়ী মাঠে গোলাগুলির শব্দ শুনে পুলিশের একটিদল ওই স্থানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলের ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় পুলিশের ওই দলটি আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে, কর্তব্যরত ডাক্তার এমকে রেজা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম হাফি বলে শনাক্ত করা হয়।
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, সোনাইমুড়ীতে ইয়াবা সম্রাট হাসান প্রকাশ ওরফে ইয়াবা হাসান (৩৮) ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। শনিবার রাত ১টার দিকে বগাদিয়া গ্রামের খালেদা জিয়া মহিলা মাদরাসার পিছনে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোনাইমুড়ী মাছ বাজার থেকে ভানুয়াই গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে ইয়াবা সম্রাট হাসানকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর মাদকের তথ্য পাওয়া যায়। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ বগাদিয়া গ্রামের খালেদা জিয়া মহিলা মাদরাসার পিছনে অভিযান চালিয়ে ১টি দেশি তৈরি পাইপগান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি রামদা, ৩টি লম্বা ছোরা, ১টি দা ও ১২৫পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এই সময় ইয়াবা সম্রাট হাসানকে পুলিশের কাছ থেকে তার সহযোগীরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশের উপর গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের গুলিতে সোনাইমুড়ী থানার ৩ কনস্ট্রেবল আহত হয়। ইয়াবা সম্রাট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সে আহত হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে জানান, ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছে। শনিবার (২৬ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর মরাখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কনস্টেবল হুমায়ুন ও কনস্টেবল আমির হামজা মারাত্মক আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে খবর আসে ওই এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে। এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয়ের মধ্যে গুলিবিনিময়ের এক পর্যায়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ এক মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আবুল কালাম মোল্লা (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় তাদের ছোড়া ককটেলে এএসআই মো. আমান উল্লাহ ও এএসআই পলাশ মৈত্র আহত হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের খেয়াঘাট সংলগ্ন শ্মশান ঘাটে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত কালাম পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ইছামতি গ্রামের কাইয়ুম মোল্লার ছেলে। তিনি মাদকের পাইকারি বিক্রেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, খুলনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ও দিঘলিয়া থানা পুলিশের যৌথ মাদক বিরোধী দল গত ২৬শে মে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দিঘলিয়া থানার মুজদখালি-সিদ্ধিপাশা শ্মশানঘাটে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দু’টি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাত ৪ ব্যক্তি আসতে থাকে। রাস্তার ওপর পুলিশ দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় আগন্তুক দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে একাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। সন্ত্রাসীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ককটেলে এএসআই মো. আমান উল্লাহ ও এএসআই পলাশ মৈত্র আহত হন। এ সময় গোলাগুলি ও বোমার শব্দ শুনে আশেপাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় উপস্থিত জনগণের সহায়তায় পুলিশ সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত একজন সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক সন্ত্রাসীকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাবেক টেকনাফ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে নোয়াখালিয়াপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে। ওই সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি পিস্তল, একটি এলজি, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত একরাম টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের খায়ুকখালীপাড়ার পরপর তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। এছাড়াও তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং টেকনাফ মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক আহবায়ক। তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের একটি ইয়াবা মামলা রয়েছে। র্যাব ৭ এর কক্সবাজার ক্যামপ কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, রাতের অন্ধকারে নোয়াখালিয়াপাড়া থেকে একটি ইয়াবার চালান কক্সবাজার শহরে যাওয়ার কথা ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব মেরিন ড্রাইভে অবস্থান নেয়। কিন্তু র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা পাচারকারীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে পাচারকারী দল পিছু হটে। পরিস্থিতি শান্ত হলে সেখানে এক যুবকের মৃতদেহ দেখতে পায়। ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১টি এলজি, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা ভর্তি কিছু প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরের মতলবে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে মো. সেলিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ৩টায় ৭টি মাদক মামলার আসামি মো. সেলিম (৩৭)কে ১১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। মতলব-বাবুরহাট পেন্নাই সড়কের ঢাকিরগাঁও গ্রামের বালুর মাঠ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সেলিমের অজ্ঞাতনামা সহযোগিরা অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর গুলি ও হামলা চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সেলিম গুলিবিদ্ধ হয়। আহতাবস্থায় তাকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কম
No comments