Header Ads

Header ADS

ঢামেক থেকে বাসায় ফিরেছেন ৩ জন

নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে তারা বাসায় ফিরেছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত তিনজনই বর্তমানে সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পর নেপাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত আমাদের গঠিত মেডিকেল টিম তাদেরকে (আহতদের) সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গতকাল সর্বশেষ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা সুস্থ আছেন। আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েতকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় ফেরত পাঠাতে পেরে তিনিসহ পুরো টিম খুশি বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি আরো বলেন, একই দুর্ঘটনায় আহত আলমুন নাহার এ্যানি ট্রমায় ভুগছেন এবং শাহরিনের পিঠের অস্ত্রোপচার করায় তাদেরকে এখনি ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না। আশা করছি, শাহরিন ও এ্যানিও দ্রুত সুস্থ হবেন। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময়ে মেহেদী হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, মনে হয়নি বেঁচে যাবো। তবুও আপনাদের দোয়ায় বেঁচে গেছি। সবার কাছে চিরঋণী হয়ে রইলাম। দোয়া করবেন যেন, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারি। সুস্থ হয়ে দেশের সেবায় কাজ করতে চাই। যে দেশবাসীর দোয়ায় বেঁচে গেছি, তাদের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবো। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা। তিনিও একই উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল তারা দুজনসহ শেখ রুবায়েত নামে আরেকজন ছাড়পত্র পান। কামরুন্নাহার স্বর্ণা বলেন, আমরা একই পরিবারের ৫ জন ছিলাম। কেউ বাঁচবো ভাবিনি। কিন্তু এ্যানি ভাবিসহ আমরা তিনজন সবার দোয়ায় বেঁচে গেলেও প্রিয়ক ভাই ও আদরের একমাত্র পরী প্রিয়ংময়ী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের চেয়ে এ্যানি ভাবির মানসিক অবস্থা আরো খারাপ। বিকাল সাড়ে ৪টায় মেহেদী ও স্বর্ণা ঢামেকের বার্ন ইউনিটের ৬ তলায় কেবিন ব্লক থেকে ছাড়পত্র নিয়ে গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের মাওনার জৈনাবাজার এলাকায় চলে গেছেন। আর রুবায়েতের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ হলেও তিনি ধানমন্ডিতে চলে গেছেন। মেহেদী আরো জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা আগামী ৬ সপ্তাহ পর চিকিৎসকদের জানানোর জন্য বলা হয়েছে। বুকে এখনো ব্যথা আছে। এটা সারতে আরো সময় লাগবে। স্ত্রী স্বর্ণা বলেন, আমার ফুসফুসে ধোঁয়া প্রবেশ করায় শ্বাসপ্রণালীতে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য বাসায় চলে গেলেও চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলেছেন। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদীর ভাবি আলমুন নাহার এ্যানিকে ঢামেকে ভর্তি করা হয় ১৬ই মার্চ আর রুবায়েত ভর্তি হন পরের দিন। এখন ঢামেকে চিকিৎসাধীন আছেন এ্যানি ও শাহরিন।

No comments

Powered by Blogger.